World Cup Brazil -2014 / Argentina

World Cup Brazil -2014 / Argentina

I’m supporting Argentina to win World Cup 2014 in Brazil.
And messi is my best player in the World.

Advertisements

Code is Poetry, CSS is Art

GOOD!

The WordPress.com Blog

We want to help your websites come alive with beautiful design. The WordPress.com theme team has been adding new themes at a dazzling rate, but did you know you can customize the style of any of our themes using the Custom Design upgrade?

CSS stands for Cascading Style Sheets which are styles that define how to display HTML elements. You can do anything from changing font colors to styling an entire site from scratch using CSS.

Not only does the Custom Design upgrade let you choose from 50+ custom fonts in the Fonts tab, it includes a CSS editor where you can save style rules after purchasing the upgrade or preview changes before buying.

Whether you are a design expert of amazing talent proportions or you are just learning the ways you can bend websites to your will, we think you’ll love making your WordPress.com sites even more…

View original post 109 more words

Breakfast & Diabetic…

নাস্তা ও ডায়াবেটিস
আমাদের জানা ভালো, দিনে রাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বেলার খাবার তাহলো প্রাত:রাশ। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য তো বটেই। 

নিউইউর্ক সিটির নিউইউর্ক প্রেসবাইটেরিয়ান হাসপাতালে সেন্টার ফর ডায়াবেটিসের ডায়াবেটিস এডুকেটার ও ডায়েটিশিয়ান এরিকাত্ররাসিস বলেন, “বিপাকীয় বিচারে ও পুষ্টির বিচারে প্রাত:রাস রক্ত শর্করা নিয়ন্ত্রণের বড় ভূমিকা নিতে পারে। শরীরকে এটি এমন পুষ্টি যোগায়, যাতে সারাদিন শরীরে বলশক্তি পাওয়া যায়।”

নিউইউর্ক সিটির বাথ ইসরায়েল মেডিকেল সেন্টারের ফ্রিডম্যান ডায়াবেটিস ইনস্টিটিউটের অন্য এক ডায়াবেটিশিয়ান জেনিফার রেজেস্টার বলেন, ডায়াবেটিক অনেক রোগী রক্তের সুগার মান নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রাত:রাশ এড়িয়ে যান। যা ঘটে তা হলো, তাদের রক্তের সুগার মান অনেক নিচে নেমে আসে। ফলে তাঁরা খুবই ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ে আর এজন্য মধ্যহ্নে অতিভোজ করে, অতিভোজন করে রাতের বেলাতেও। এতে ঘটে রক্তের সুগার মানে চড়াই উৎরাই। অথচ সেব্যক্তি ভালো করে প্রাত:রাশ খেলে এমন বিপত্তি ঘটতোনা।

যদি কোনো লোক সকালবেলা উঠে দেখেন রক্তের সুগার মান উচুতে যেমন ৩০০ মিলিগ্রাম তবু প্রাত:রাশ খেতে হবে, তবে এতে প্রোটিনের প্রাধান্য থাকবে। শর্করা সামান্য খেলে হয়, যেহেতু রক্তের শর্করা উচুতে। আর সেজন্য একে আর বাড়ানোর প্রয়োজন নাই। তবে পরের বেলার খাবারে যখন রক্তের সুগার নেমে আসবে, তখন আবার শর্করাকে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে ঢোকাতে পারবো খাবারে।

কি খেতে হবে ?

প্রাত:রাশে চাই সুষম খাবার। ভালো প্রাত:রাশে থাকবে প্রোটিন, মেদ ও জটিল শর্করা যেমন আটার রুটি বা ঢেঁকিছাটা লাল চাল বা ওটমিল্ । ফল খেতে হয়। জার ফলের জুসের চেয়ে গোটা ফল অনেক ভালো। ফলের জুস খেলে রক্তের সুগার মানের যে উঠানামা হয়, গোটা ফল খেলে তা হয়না। তাই কমলার রসের চেয়ে গোটা কমলা, নাসপাতি বা আপেল অনেক ভালো। প্রাত:রাশের জন্য অনেকগুলো ভালো বিকল্প আছে যেমন-

০০ ১ টি ডিমের শ্বেত অংশের ওমলেট, একসস্নাইস আটার রুটি, এক টুকরো ফল।

০০ একটি ডিমের স্যান্ডউইচ, আটার রুটি আর এক টুকরা ফল।

০০ প্রতিসপ্তায় ৪টি ডিমের বেশি খাওয়া ঠিক হবে না সেজন্য ডিমের শ্বেত অংশের স্যান্ডউইচ নিলে ভালো, অথবা একটি ডিমের সঙ্গে দুটো বা তিনটি ডিমের শ্বেত অংশের অমলেট করে খেতে পারেন।

০০ এক বাটি ওটমিল তৈরি করুন। অর্ধেক বাটি ওট নিয়ে। শস্যখাদ্য বেশি খাওয়া হয়ে যায় সহজেই, তাই কতখানি নিলেন তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

০০ দুই সস্নাইস গমের রুটি এবং পিনাট মাখন দিয়ে তৈরি স্যান্ডউইচ খাওয়া যায়।

০০ দধি, বাদাম ও ফল। টকদই, বাদাম এবং ফল।

০০ খই/মুড়ি/পপকর্ন এবং ননীহীন দুধ।

০০ আশযুক্ত শস্য খেলে রক্তের সুগার থাকে সুনিয়ন্ত্রণে।

অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী

পরিচালক, ল্যাবরেটরী সার্ভিসেস

বারডেম, ঢাকা।

Kemon habe :Salulaid’71 movie



সেলুলয়েডে ’৭১

কামরুজ্জামান | তারিখ: ২৪-০৩-২০১১

‘গেরিলা’‘গেরিলা’

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ছবি নির্মাণের নানা গল্পই আমরা ‘আনন্দ’ পাতায় নানাভাবে তুলে ধরেছি। এবার আমরা কয়েকটি চলচ্চিত্র বেছে নিয়েছি, যে ছবিগুলো নির্মাণের সময় নির্মাতারা যুদ্ধের আবহ তুলে ধরেছেন। এই আবহ তৈরি করতে নির্মাতাকে নানা কৌশল অবলম্বন করতে হয়েছে। নির্মাতারা কীভাবে সেই যুদ্ধকে সেলুলয়েডে আবদ্ধ করেছিলেন, তা নিয়েই আমাদের এবারের প্রতিবেদন।

স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ওরা ১১ জন নামের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের নির্মাণকাজ শুরু করেন চাষী নজরুল ইসলাম। ১৯৭২ সালের মার্চ-এপ্রিলের দিকে পরিচালক ছবির শুটিং শুরু করেন। ছবিতে তিনি তাঁদেরই নিলেন, যাঁরা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। রণক্ষেত্রের শুটিং করতে হবে। লোকেশন খুঁজতে খুঁজতে তাঁরা রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসে গেলেন। বর্তমান ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলী ছবি নির্মাণে সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে সহযোগিতা করলেন।
‘কথা ছিল, আমরা ছবিতে যুদ্ধের যে দৃশ্য দেখাব, সেখানে কোনো নকল গোলাবারুদ ব্যবহার করব না। তাই যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহূত হয় এমন সব সরঞ্জাম এবং আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহূত রাইফেল ব্যবহার করলাম। সেই সব রাইফেল থেকে সত্যিকারের গুলিও ছোড়া হলো। আর ছবির দুই শিল্পী—খসরু ও মুরাদের হাতে সব সময় রাইফেল থাকত। এ কারণে ছবির অপর শিল্পী শাবানা তো রীতিমতো ভয়ে কাঁপতে থাকত। একদিন বলল, “চাষী, একটা গুলি যদি বের হয়ে আসে আমাদের দিকে, তখন কী হবে?” আমিও ভয় পেতাম। কিন্তু খসরু আমাকে অভয় দিয়ে বলত, “চাষী ভাই, হাতের নিশানা আমার খারাপ না। ভয় পাবেন না।” আমার মনে আছে, রাজেন্দ্রপুরে শেষ দিন প্রচণ্ড গোলাগুলির দৃশ্যায়ন করলাম। মনে হলো, আজ যেন সত্যিকারের যুদ্ধ করলাম এবং জয়ী হলাম।’ বলছিলেন ছবির নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম।
অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী ছবি নির্মাণ করলেন সুভাষ দত্ত। একাত্তরের যুদ্ধের সময় সুভাষ দত্ত ওপার বাংলায় যাওয়ার পথে যে দৃশ্যগুলো দেখেছিলেন, সেগুলোই মনে গেঁথে রেখেছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি ঠিক করলেন একটি ছবি বানাবেন। ছবির শিল্পী নির্বাচন করলেন। তারপর তিনি লোকেশন খুঁজলেন। বেছে নিলেন কুমিল্লা সেনানিবাস। সরকারের কাছে সহযোগিতা চাইলেন। সামরিক যানবাহন থেকে শুরু করে হেলিকপ্টার পর্যন্ত ব্যবহার করলেন।
তিনি সেনানিবাসে গিয়ে পরিত্যক্ত একটি ক্যাম্প খুঁজে পেলেন। জানতে পারলেন এই ক্যাম্পেই নারীদের ধরে আনা হতো। তারপর সেখানেই আটকে রেখে দিনের পর দিন নির্যাতন করা হতো। অনেকেই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন।
‘ছবির শিল্পী ববিতাকে বললাম, এই ঘরের মধ্যেই তোমার শুটিং করব। সেনানিবাসে আমাকে সহযোগিতা করলেন সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান। তাঁর স্ত্রী, পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, খালেদা জিয়া নিজেই আমাদের আপ্যায়ন করেছেন। আমি শুটিং শুরু করলাম। ববিতাকে বললাম, তোমাকে ধরে নিতে হবে, তুমি এই ঘরের মধ্যে আটকে আছ। তোমার মতো অনেকেই আটকে আছে। যুদ্ধ শেষ হয়েছে। তুমি মুক্ত হয়েছ। কিন্তু তত দিনে…। (সুভাষ দত্ত কিছুটা আবেগাপ্লুত)।
‘ববিতা কথামতো শুটিংয়ের জন্য ক্যামেরার সামনে দাঁড়াল। ক্যামেরা চলতে থাকল। ববিতাকে বললাম, তুমি আর্তনাদ করো। ববিতা কাঁদছে। কাঁদছে তো কাঁদছেই। ক্যামেরা থামিয়ে দিয়েছি। কিন্তু ববিতার কান্না আর থামে না। আমি ওর হাত ধরে বললাম, এই পপি (ববিতার ডাক নাম পপি), তুমি খুব সুন্দর করেছ। কান্না থামাও। ক্যামেরা থেমে গেছে, ববিতা যেন তখন হুঁশ ফিরে পেল। পরে যখন ছবিটি দেখলাম, আমি নিজেও আবেগ ধরে রাখতে পারিনি। আর এ কারণেই অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী মুক্তিযুদ্ধের একটি অগ্নিসাক্ষী হয়েই আমাদের কাছে ধরা দিয়েছে।’ বলছিলেন সুভাষ দত্ত।
কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ নির্মাণ করেছিলেন আগুনের পরশমণি ছবিটি। এটি ছিল তাঁর নির্মিত প্রথম কাহিনিচিত্র। এই ছবিতেও তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময়কার পরিবেশ ও পরিস্থিতি তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু কীভাবে তিনি এই আবহ তৈরি করলেন?
হুমায়ূন আহমেদ বললেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি যুবক ছিলাম। নিজের চোখে দেখেছি সেই সময়ের অবস্থা। ভয়াবহ এক আতঙ্ক আর মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল। সেসব দেখা দৃশ্যই আসলে আমি ছবিতে তুলে ধরতে চেয়েছি। সুসজ্জিত পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে আমাদের আমজনতা। মাঝেমধ্যেই সীমান্তের ওপার থেকে আমাদের মুক্তিসেনারা প্রশিক্ষণ নিয়ে এসে ঢাকায় হামলা চালিয়েছেন। আমি আমার ছবিতে এই বিষয়গুলো তুলে ধরেছিলাম। প্রথম পরিচালনা বলে হয়তো পুরো আবহটা ফুটিয়ে তুলতে পারিনি। এখন যদি ছবিটা বানাতাম, তাহলে হয়তো আরও ভালোভাবে ছবিটিতে মুক্তিযুদ্ধের আবহটা তুলে ধরতে পারতাম।’
হুমায়ূন আহমেদ শ্যামল ছায়া নামেও একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। এই ছবিতে মুক্তিযুদ্ধের আবহ তুলে ধরার বিষয়ে তিনি বললেন, ‘ছবিটির শুটিং হয়েছিল শীতলক্ষ্যা নদীতে। প্রায় দেড় মাস শুটিং করেছি। প্রচণ্ড গরমের সময় কাজটা করতে হয়েছে। পানির ওপর আরও বেশি গরম অনুভূত হয়। এ জন্য মাঝেমধ্যে আমার ক্যামেরাম্যান আনোয়ার হোসেন পানিতে ঝাঁপ দিয়ে শরীর ভিজিয়ে নিতেন। ছবিটিতে দেখিয়েছিলাম, একটি নৌকায় করে অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য অজানা গন্তব্যে ছুটতে থাকে। কিন্তু পথে তারা পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণের মুখে পড়ে। সেই অবস্থা থেকে নিজেদের মুক্তির উপায় বের করে নেয় পরিবারগুলো। অসহনীয় কষ্ট সহ্য করে তারা। এখানে দেখানো হয় যে আমাদের এই পরিবারগুলোর সহায়তা নিয়ে একটি পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করে দেয় মুক্তিসেনারা। যুদ্ধের সময় আমাদের মুক্তিসেনারা পাকিস্তানি জাহাজ ধ্বংস করেছিলেন যে কৌশলে, আমরাও সে রকম কিছু ঘটনার অবতারণা করলাম। একটি জাহাজ ধ্বংস করে পরিবারগুলোকে নিয়ে নৌকাটি নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়।’
মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেক পাকিস্তানি সাঁজোয়া যান যেমন ধ্বংস হয়েছিল, আবার যুদ্ধের অনেক সরঞ্জাম দখলে নেয় মুক্তিবাহিনী। জয়যাত্রা ছবিতে সে রকম কয়েকটি গাড়ির দরকার হলো। কোথায় যাওয়া যায়? পরিচালক তৌকীর আহমেদ খোঁজ করতে করতে জানতে পারলেন, বগুড়া সেনানিবাসে পরিত্যক্ত অবস্থায় এ রকম কয়েকটি গাড়ি রয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করলেন। তাদের বোঝাতে সক্ষম হলেন, মুক্তিযুদ্ধের একটি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র নির্মাণে যুদ্ধযানের যেমন প্রয়োজন, তেমনি পাকিস্তানি ওই গাড়িগুলোর ব্যবহার জরুরি। কাঠখড় পুড়িয়ে, সরকারের বিভিন্ন মহলের অনুমতি পাওয়ার পর তৌকীর শুটিং করলেন জয়যাত্রা ছবির। পাকিস্তানি গাড়িগুলো এমনই অচল ছিল যে মেরামত করার পরেও কিছুটা পথ চলার পরেই বন্ধ হয়ে যেত। তবে পরের দিকে তৌকীর সামরিক বহর নিয়েও শুটিং করলেন।
‘আসলে এই সামরিক সরঞ্জামের ব্যবহার করা না গেলে হয়তো যুদ্ধের আবহটাকে তুলে ধরা যেত না। আমি সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনী—সবার কাছ থেকেই সহযোগিতা পেয়েছি। যেমন বিমানবাহিনীর দুটি যুদ্ধবিমান উড়ে এসেছিল ঢাকা পর্যন্ত। নদীর ওপর যখন নৌকা চলছে, তখন বিমান থেকে বোমা বর্ষণের দৃশ্যায়ন দেখানোর জন্য এই শুটিংটা করতে হয়েছিল। প্রথম দিন তো আকাশ মেঘলা থাকার কারণে শুটিংই করা গেল না। পরদিন আবার বিমান আসে এবং শুটিং করা হয়। নৌবাহিনীর কাছে আমরা ’৭১ সালের একটি জাহাজ চাইলাম। জানা গেল, খুলনার দিকে একটি জাহাজ রয়েছে। ওই জাহাজের ক্যাপ্টেন পাকিস্তানি জাহাজের মতো করে সাজিয়ে জাহাজটি শুটিংয়ের জন্য ঢাকার কাছাকাছি নিয়ে এলেন। আসলে এসব আয়োজন নিয়েই যুদ্ধের আবহটাকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলাম আমরা।’ বলছিলেন তৌকীর আহমেদ।
সরকারি অনুদান নিয়ে চলচ্চিত্রকার নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু নির্মাণ করেছেন গেরিলা ছবিটি। এটি আগামী ১৪ এপ্রিল মুক্তি পাবে। এই ছবি নির্মাণে নাসির উদ্দীন ইউসুফ সর্বপ্রথম জোর দিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধের আবহ ফুটিয়ে তোলার দিকটিতে। যেমন—ছবির গল্পে ছিল ট্রেনের ব্যবহার। পাকিস্তান আমলের ট্রেন কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। পরিচালক খুঁজতে খুঁজতে পার্বতীপুরে চলে গেলেন। সেখানে পরিত্যক্ত অবস্থায় দেখতে পেলেন কতগুলো বগি। যেগুলোর ফ্লোর নেই, গাড়ির ভেতরে কোনো আসন নেই, জানালা নেই, দরজা নেই। রেল কর্তৃপক্ষকে বাচ্চু বললেন, ‘আমি এগুলো ব্যবহার করতে চাই।’ কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষ জানাল, এগুলো ব্যবহার করার উপযোগী নয়। বাচ্চু অনড়। বললেন, ‘আমি মেরামত করাব। টাকা-পয়সা লাগলে আমি দেব।’ রেলওয়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করলেন। এরপর ছয়টি বগি ঘষেমেজে মেরামত করা হলো। সৈয়দপুর থেকে ৭০, ৭৫ বছরের বিহারিদের নিয়ে আসা হলো, যারা একসময় রেলওয়েতে চাকরি করতেন। তাঁরা বললেন, গাড়ির রং হবে সবুজ। সেই রং করা হলো। এরপর সমস্যা দেখা দিল, ইঞ্জিন কোথায় পাওয়া যাবে। কেউ কেউ বললেন, কয়লাচালিত ইঞ্জিন ছিল সে সময়। কিন্তু পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ১৯৫৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানে স্টিম ইঞ্জিন ছিল। সেটির খোঁজ পাওয়া গেল। সেটিও একেবারেই অকেজো। রাত-দিন পরিশ্রম করে রেল কর্তৃপক্ষ সেই ইঞ্জিন ঠিকঠাক করে দিল। লাখ লাখ টাকা ব্যয় হলো। তারপর ছয়টি বগির গাড়ি দিয়ে দিনাজপুর থেকে পার্বতীপুর হয়ে রংপুর পর্যন্ত ট্রেনটা চালানো হয়। এই ট্রেনের জন্য অনেক যাত্রীবাহী ট্রেনকে থামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এত সব করেই মুক্তিযুদ্ধের আবহটাকে গেরিলাতে তুলে ধরা হয়েছ। বললেন বাচ্চু।
এর বাইরেও কিছু ঘটনার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের আবহ তুলে ধরেছেন পরিচালক। যেমন পাকিস্তানি সাঁজোয়া যান পোড়ানোর ঘটনা দেখাতে গিয়ে সত্যিকারের গাড়ি পর্যন্ত পুড়িয়ে দিতে হয়েছে। এমনি করে গেরিলা তৈরি হয়েছে। ছবিটি আর কদিন বাদেই প্রেক্ষাগৃহগুলোতে প্রদর্শিত হবে।

 

Mukti Jhudder Sriti…

লঞ্চের আপার ক্লাসে বাচ্চা হাতি

মম হারুনর রশিদ | তারিখ: ২৫-০৩-২০১১

 

 

মুস্তফার কাঁধে পিআইএর বিমানের ছাপমারা একটি হলুদ পুরোনো রংচটা ছেঁড়া জিপারের ট্র্যাভেলিং ব্যাগ। সে দোলখোলার মোড়ে এসে রিকশা খুঁজতে থাকে। এখন বৃষ্টি নেই, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ও গুমোট। রাস্তাঘাট ভেজা, বিল্ডিংয়ের কার্নিশ ও দোকানগুলোর চাল থেকে ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টির জমে থাকা পানি পড়ছে। বৃষ্টির কারণে রিকশাচালকেরা ভাড়া হাঁকাচ্ছে দ্বিগুণ। একটি রিকশা দরদাম করে আইডব্লিউটিএ ঘাটের দিকে যেতে থাকে। পাওয়ার হাউসের মোড়ে এসে রিকশা আটকে যায়। যশোর রোড ধরে বিশাল মিছিল চলছে। হাজার হাজার শ্রমিক ছোট ছোট লাল পতাকা দুলিয়ে ও প্ল্যাকার্ড কাঁধে ছুটছে মিউনিসিপ্যাল পার্কের দিকে। তাদের স্লোগানে আকাশ-বাতাস মুখরিত।
সামনে ঝাঁকবাঁধা রিকশার দঙ্গল, মালবোঝাই কয়েকটি ঠেলাও আটকে পড়েছে। রিকশার উৎসুক যাত্রীরা বলছে, ‘দৌলতপুর কুলিবাগান থেকে জুটপ্রেসের শ্রমিকেরা মিছিল নিয়ে আসছে।’
মুস্তফা এক তরুণ রিকশাযাত্রীকে জিজ্ঞেস করে, ‘এরা কিসের মিছিল করছে?’
তাকে বেশ উত্তেজিত মনে হয়, বলে, ‘আমার দেশের পাট বিক্রির টাকা চলে যায় পশ্চিম পাকিস্তানে আর ভুখানাঙ্গা পাটশ্রমিদের ন্যায্য মজুরি দেওয়া হয় না। তাদের সন্তানেরা খেতে পায় না। কতকাল তারা মুখ বুজে সহ্য করবে?’
মিছিলের গগনবিদারি স্লোগানে তার বক্তৃতা ঢাকা পড়ে যায়, মুস্তফা আর কিছুই বুঝতে পারে না।
মামাবাড়ি থেকে বেরিয়ে একবার সে নতুন বাজারে যেতে চেয়েছিল, কিন্তু নতুন বাজারে সব লঞ্চ থামে না, তাই সে সিদ্ধান্ত পাল্টায়। আইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে তাদের ধানুয়াবাদ লাইনের অনেক লঞ্চ ছাড়ে। ভাঙ্গনপাড়, কুড়িকাহুনি, চালনা, মোঙ্গলাপোর্ট এসব লঞ্চ নালুয়া নদী দিয়েই যায়। তাই মনে মনে সে সিদ্ধান্ত নেয়, এই বৃষ্টিবাদলের দিনে আইডব্লিউটিএ ঘাটে যেয়ে দেখেশুনে আজদাহা বড় একটি লঞ্চে উঠবে। কিন্ত এখন ভারি কিচাইনে পড়েছে, মিছিলের যেন শেষ নেই। সে শিববাড়ীর দিকে তাকায়, পিঁপড়ের সারির মতো লাল পতাকায় রাঙানো জনস্রোত আসছে।
অগত্যা রিকশা থেকে নেমে পড়ে।
লঞ্চ টার্মিনালে এসে মোকছেদ মেম্বারের সঙ্গে দেখা, তাঁর সঙ্গে কথা বলে জেনে নিল সাড়ে চারটায় কুড়িকাহুনির বড় লঞ্চটি ছাড়বে। মেসার্স ছোমেদউদ্দিন সান অ্যান্ড কোং নামের বেশ বড় জাব্দাজোব্দা একটি লঞ্চ, সে এই লঞ্চের টিকিট কেটে উঠে পড়ে। সাধারণত মুস্তফা আপার ক্লাসে বসে না, ডাবল ভাড়া। তাছাড়া এখানে গ্রাম্য এলিট-টাউট কিসিমের লোকেরা ও কিছু সিনিয়র কলেজ ছাত্ররা বসে। তবে এবার সে নব্য কলেজ স্টুডেন্ট, একটা স্ট্যটাস আছে না, আর কলেজছাত্রদের হাফ ভাড়া, সে নুতন আইডেন্টি কার্ডও সঙ্গে এনেছে।
মোকছেদ মেম্বার আপার ক্লাসে বসে সিগারেট টানছে। মুস্তফা তার ব্যাগটি মেম্বারের উল্টো দিকে সিটের ওপর রেখে বলে, ‘মেম্বর কাকা আমার ব্যাগটি থাকল, দেখবেন, আমি একটু ঘুরে আসি।’
‘আরে ভাইপো, আমার কাছেই বসো, ব্যাগ ইহেনি রাখো।’
‘না না, আপনি মুরুব্বি মানুষ, লঞ্চে আমার আবার ঝিমোনর অভ্যেস আছে।’
সে মোকছেদ মেম্বারকে দু-চোখে দেখতে পারে না। এই বিডি মেম্বার মুসলিম লীগের টাকা খেয়ে আইয়ুব খানকে ভোট দিয়েছিল, পরে দেখা গেল, এক শ টাকার জিন্নাহ মার্কা সব নোট ছিল জাল। তা ছাড়া ধানুয়াবাদ হাটখোলায় তারা যখন পাঠাগার করেছিল, তখন এই মেম্বার কোনো সহায়তা তো করেইনি, বরঞ্চ অনেক পানি ঘোলা করেছিল।
লঞ্চ ছেড়ে দেওয়ার সময় হলো, মুস্তফা লঞ্চে উঠে নিচে ডেকের ভেতর দিয়ে হেঁটে যায়। এখন বৃষ্টি নেই, তবে বাতাস শুরু হয়েছে। টিকিট কেটে কিছু আনি-দোয়ানি তার পকেটে রয়েছে। একটি বেঞ্চে বসে সে তিলের খাজাওয়ালাকে ডেকে দুই আনার তিলের খাজা কিনে চিবুতে থাকে, এক প্যাকেট বাড়ির ছোট ভাইবোনদের জন্য নেয়। গুড় ও তিলমিশ্রিত উপাদেয় তিলের খাজা। তাদের গ্রামে তিল চাষ হলেও কেউ খাজা বানানোর রেসিপি জানে না। এই মুখরোচক মালটি যশোরের দিক থেকে এখানে আসে।
ভৈরব পেছনে ফেলে লঞ্চ এখন ফরেস্ট ঘাটের কাছে রূপসা নদীতে। ঘাটে ‘বনরানী’ ছোট বাহারি স্টিমারটি বটগাছের মোটা শেকলের সঙ্গে বাঁধা। এই স্টিমারে মন্ত্রী-মিনিস্টার—আয়ুব খানের পেয়ারের লোকেরা বাদায় যায় বাঘ, হরিণ ও কুমির শিকার করতে। মোগলরা মৃগয়ায় যেত হাতিতে চড়ে। ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট, নদীনালার ব্যারিকেড, এখানে হাতি অচল তাই আজকের নব্য মোগলদের জন্য এই বিলাসী কলের নৌযানের আয়োজন। ঝির ঝির করে বৃষ্টি শুরু হলো, অগত্যা গা বাঁচাতে মুস্তফা আপার ক্লাসের ভেতর ঢোকে।
‘মোকছেদ মেম্বার মুস্তফাকে বলে, কোয়ানে ছিলে এতক্ষণ? তোমার সিট আমি ঠেকায় রাহিছি।’
সিটে বসে ব্যাগটি বেঞ্চির নিচে চালান করে দিয়ে সে একবার চারদিকে চোখ ঘুরিয়ে দেখে নিয়ে বসে।
নুতন বাজার এসে লঞ্চ থামে। আরও কয়েকটি লঞ্চ এলোমেলোভাবে ঘাটে ভিড়ে আছে। অনেক প্যাঁচ কষে ঘাই-গুঁতো মেরে মেসার্স ছোমেদউদ্দিন সানা ঘাটে ভিড়ল। পিচ্ছিল কাঠের জেটি। সাবধানে পা টিপে টিপে যাত্রীরা উঠছে। অনেককে হাত ধরে কাঠের সিঁড়ি দিয়ে ওপরে তুলে দিচ্ছে হেলপার। একজন অন্ধ ভিক্ষুক একতারা নিয়ে উঠল।
দশাসই মোটা-তাজা মিশমিশে কাল রঙের একজন লোক, পরনে ঢোলা পাজামা ও সিল্কের মিহি পাঞ্জাবি, আপার ক্লাসের দরজায় একটু মাথা নিচু করে ঢোকে। লঞ্চের তেল-মবিলের আদিম খনিজ গন্ধ ছাপিয়ে একটা ভুরভুরে সুবাস চারদিক ছড়িয়ে পড়ে। মুস্তফা একটু আড়চোখে দেখে, তাঁর পাঞ্জাবিতে সোনার চেন ও সোনার বোতাম লাগানো। তাঁর পেছন পেছন হালকা-পাতলা ঢেঙ্গামতো, দেখতে তালপাতার সেপাই, লুঙ্গি ও হাওয়াই শার্ট পরে এক লোক এক হাতে অ্যাটাচি ব্যাগ এবং অন্য হাতে একটা ডাঙর চটের ব্যাগভর্তি সওদাপাতি নিয়ে ঢোকে।
মুস্তফার পাশে বসা মাঝারি সাইজের লুঙ্গি ও নীল খাটো পাঞ্জাবি পরা লোকটি উঠে দাঁড়ায়।
এবার দশাসই মাঝবয়সি লোকটি ডাকতে থাকে, ‘ও কেষ্ট, আমার সিট কোয়ানে রাখিছিস?’
‘আজ্ঞে, চ্যারমান সাহেব, এহিনি বসেন।’
সে মুস্তফাকে হালকাভাবে গায়ে হাত দিয়ে বলে ওঠে, ‘চ্যারমান সাব বসপেন, আপনি এট্টু সরেসুরে বসেন।’
চেয়ারম্যান সাহেব তার সঙ্গী টেন্ডলকে বলেন, ‘ও কাদের, অ্যাটাচি ব্যাগডা টেবিলির ওপর রাখ আর থলেডা টেবিলির নিচের দিকে রাখ।’
এবার মোটা বাচ্চা হাতির মতো লোকটি এসে মুস্তফার পাশে ফাঁকা করে দেওয়া সিটে পাছা গলাতে চেষ্টা করে, কিন্তু জায়গায় সংকুলান হচ্ছে না।
এবার টেন্ডল তালপাতার সেপাই বলে, ‘আপনারা এট্টু চাপে-চুপে বসেন, চ্যারম্যান সাহেবরে জায়গা করে দেন।’
সবার তখন নজর এই বাচ্চা হাতি চেয়ারম্যানের দশাসই শরীরের দিকে। কেউ কেউ একটু নড়েচড়ে তার জন্য জায়গা করে দিল।
মোকছেদ মেম্বার তার সিট থেকে উঠে দাঁড়িয়ে সালাম দিয়ে বলেন, ‘চেয়ারম্যান সহেব, কেমন আছেন?’
‘আরে, মোকছেদ না, তা তোমার খবর কী?’
‘আল্লার রহমতে সহিসালামতে আছি। তা আপনি কেমন আছেন?’
‘আর দেহোনা খুল্লের বাড়িতে আট-দশ দিন পড়ে ছিলাম, সাহেবের রাওয়ালপিন্ডিরতে আসার কথা ছেলো কিন্তু আসতি পারেনি, আউয়ুব খানের সাথে জরুলি কাজে আটকে গেছেন। পিসিডেন্ট হলি কী হবে, সাহেবরে ছাড়া তিনি কিছু করতি চান না।’
তিনি আবার হাঁক ছাড়েন, ‘ও কাদের, তোরা কনে। যেন বড় কালো মাইটের ভেতর থেকে আওয়াজ বেরোচ্ছে, তার উচ্চকণ্ঠের গমগমে আওয়াজে আপার ক্লাসের এই ক্যাবিন প্রকম্পিত হচ্ছে।
লঞ্চের সুমতি হয়েছে। আশপাশে ঠেলাধাক্কা দিয়ে লঞ্চটিকে অবমুক্ত করে সারেং দক্ষিণ দিকে মুখ করে চালাতে শুরু করে। বৃষ্টির সঙ্গে বাতাসও বইছে। জোয়ারের প্রতিকূল স্রোত, স্রোতের বাধা ঠেলে অনেক শক্তি খরচ ও কসরৎ করে লঞ্চটিকে সামনে এগোতে হচ্ছে। বাচ্চা হাতি চেয়ারম্যান সামনের গোলটেবিলের ওপর থেকে চামড়ার ব্যাগ খুলে লুঙ্গি বের করেন। বেশ কড়কড়ে নুতন প্ল্যাকার্ড লুঙ্গি। এবার তিনি দাঁড়িয়ে পাঞ্জাবি উঁচু করে লুঙ্গি পরে তাঁর পাজামার ফিতে খুলতে শুরু করেন।
লুঙ্গি পরা কমপ্লিট করে, পকেট থেকে একটি চেন লাগানো সোনালি রঙের গোলগাল চকচকে ঘড়ি বের করে সময় দেখলেন। ব্যাগ থেকে একটি খবরের কাগজ বের করে মেলে ধরলেন, আজকের সংখ্যা দৈনিক পাকিস্তান। পাঞ্জাবির ঝুলপকেট থেকে চশমার খাপ বের করে, খাপ খুলে সোনালি রঙের চশমা পরলেন।
‘কেষ্ট ও কেষ্ট’—
কেষ্টরা ধারে-কাছেই প্রস্তুত ছিল।
‘আজ্ঞে সাহেপ, কিছু নাগবে নাকি।’
‘নিচে যেয়ে চা’র অর্ডার দে!’
বলে তিনি এবার জোরে জোরে কাগজ পড়তে শুরু করেন: মওলানা ভসানীর চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে মেডিকেল বোর্ড গঠন। বৃটেন প্রবাসী বাঙ্গালীরা তাকে লন্ডনে লইয়া চিকিৎসা করানোর প্রস্তাব পাঠাইয়াছেন। চীন ও সোভিয়েত রাশিয়া তাকে তাদের দেশে লইয়া চিকিৎসার প্রস্তাব পাঠাইয়াছে। কিন্তু তিনি বিদেশে যাইবেন না দেশেই চিকিৎসা লইবার ইচ্ছা প্রকাশ করিয়াছেন।
এবার তিনি পড়া বাদ দিয়ে মোকছেদ মেম্বারের দিকে তাকিয়ে বলতে থাকেন, ‘আরে ও মেম্বার, আমাগে মোসলেম লীগ সরকারের কাণ্ড দ্যাহো, ভাসানীর ট্রিটমেন্ট করতি টাহা খরচ করতিছে। জামাই আদরে শত্রু পালন।
জানালার পাশ থেকে তার টেন্ডল কাদের বলে ওঠে, ‘এই কারণে তো চ্যারমেন সাহেব আমাগে পাইটিতে মানুষজন আসতি চায় না।’
‘চুপ হারামজাদা, পার্টিতি কি মানুষজনের অভাব, তাহলি আমি চ্যারম্যান হলাম কি এরে, পাবলিক তো আমারে ভোট দেছে। মোসলেম লীগ আর সবুর সাহেবের লোক বলেই তো পাবলিক আমারে ভলোবাসে।’
এতক্ষণ বাইরের বাতাস ও চেয়ারম্যনের ধমকে টেন্ডল কাদের ম্যাকচা মেরে গিয়েছিল। এবার সে মোসাহেবির সুযোগ নিল, ‘চ্যারম্যান সাহেব, সবুর সাহেব আপনারে খুব ভালোবাসে, আপনি তারে এসব কথা কবেনদি, এই শালার ভাসানীর চ্যালাব্যালারা আমাগে বটবুনে, তিলডাঙ্গা, খোনা, খাটালিতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠিছে। তারা কয়কি জানেন, ‘‘নাঙ্গল যার, জমি তার’’, তারা নাকি গরিব বড়লোক সব সুমান করবে।’
বাচ্চা হাতি এবার নড়াচাড়া দিয়ে ওঠেন, ‘আরে থাম, এইসব কথা খিডা কয়, ওই খাটালির রুস্তম সানার ছাওয়াল, কী যেন নাম আর বোধহয় বটবুনের বীরেনের ছাওয়াল বিধান। এই ওরা নাকি মিটিং করে আমারে গালাগালি এরে বেড়াচ্ছে।’
‘শুধুই কি গালাগালি আইয়ুব খান আর সবুর সাহেবের চৌদ্দ পুরুষ উদ্ধার করতিছে।’
‘আরে থাম, অত ফচর ফচর করিসনে, আমার মাথায় রক্ত উঠে যাচ্ছে। কত ধানে কত চাল, আমি তা দিখায় দেব। ওই সব মাঠ-মারানির ছাওয়ালগে পাছায় নাথি মারে, সব কয়ডারে রাঙ্গা দালানে ঢোকাব। আমারে তো চেনে না, পিপীলিকার পাখা গজাইছে, পাখনা সব মুচড়ায়ে ভাঙ্গে দেব।’
উত্তেজিত চেয়্যারম্যানের আস্ফাালন ও নড়াচাড়ায় এবং তাঁর ওজনদার শরীরের ঠেলাগুতোয় মুস্তফার অবস্থা খুব কাহিল। আপার ক্লাসে সর্বসাকল্যে জনাত্রিশেক পুরুষ যাত্রী; বাচ্চা হাতি ও তাঁর টেন্ডলের এসব ফাল্টুকুলুস মার্কা কথাবার্তায় অনেক তরুণ-যুবক তাঁর দিকে আড়চোখে তাকায়।
তিনি খবরের কাগজ মেলে ধরে, চশমা খুলে একটু তুলোট কাপড়ে মুছে আবার জোরে জোরে পড়তে থাকেন—
আওয়ামী লীগ বিভক্তির পথে। শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ৬ দফাপন্থী ও নবাবজাদা নসরুল্লাহ খানের নেতৃত্বে পিডিএমপন্থী।
টেন্ডল তালপাতার সেপাই বলে ওঠে, ‘সাহেব আম’লীগ তাহলি তো কাত।’
‘আরে বাবা, খানগে সাথে পারা কি মুহির কথা। আইয়ুব খানের এট্টা নোমার সমান এই দ্যাশে খিডা আছে?’
এবার ফেরদৌস হাতা গুটিয়ে হাত নেড়ে খুব উত্তেজিতভাবে বলে ওঠে, ‘চেয়ারম্যান সাহেব, শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগ বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফা প্রণয়ন করেছে। আওয়ামী লীগ বাঙ্গালীর জাতীয় দল, এখানে এই সব পাঞ্জাবি নবাবজাদাদের কোন স্থান নাই।’
‘৬ দফা দিয়ে শেখ সাহেব কী এরতি চায়, পাকিস্তান ভাঙ্গতি চায়?’
‘পাকিস্তান ভাঙ্গবে ক্যান? বাাঙালি জাতির শত্রু ২২ পরিবারের প্রতিনিধি আইয়ুবকে গদি থেকে নামাতে হবে, আমাদের চাই স্বায়ত্তশাসন,ব্যস। শেখ মুজিব বাঙ্গালীর প্রিয় নেতা…।’
বাজান, তোমরা ছাত্র মানুষ, ল্যাহাপড়া শিখতিছ, তোমাগে বয়স কম। খালি গরম কথা কলি তো হবে না। আরে, তোমরা তো ইতিহাস জান না, শোনো, শেখ মুজিব, ভাসানী আগে মোসলেম লীগে ছেল। এরা সারা জীবন দল ভাঙ্গা আর নতুন দল বানানোর পায়তারা করিছে। এই সব লিডাররা চলে ইন্ডিয়া, চীন, রাশিয়ার ইশারায়। বিদেশের টাকা খায়ে ইরা দ্যাশের মধ্যি গন্ডগোল পাকাচ্ছে।’
সামনের দিক থেকে শ্যামলা রঙের, একটু লম্বা মাথায় ঝাঁকড়া চুলের একজন সিনিয়র গোছের ছাত্র বলে ওঠে, ‘এতক্ষণ আপনার ও আপনার চামচা ইচ্ছামতো যা খুশি তা-ই বলছেন, কী মনে করেন, এই বনে কি বাঘ নেই?’
এবার বাচ্চা হাতি একটু বিব্রত ও হতচকিত হয়ে একটু তোঁতলাতে থাকেন, ‘বাব্বরাহ… ইহানে বাঘের নাম আআ…সতিছে কেন? আরে বাজান, তুমি এট্টু ঠান্ডা হও। শোনো, তোমরা তো সেদিনের ছাওয়াল, বৃটিশ টাইমি কি অত্যাচার ছেল হিন্দুগের, তোমরা তো তা দেহনি, তোমরা তো সেদিনের জিহুত। বাবুগে পায় সেলাম দিয়েও রক্ষে পায়া যাতো না। শৈলেন ঘোষের বাড়ির সামনে দিয়ে ছাতি মাথায় দিয়ে কোনো মিঞার বিটা যাতি পার তো কওদি? গেলি তার খবর ছেল, অন্ধকূপে আটকায়ে চাবুক মারা হতো।’
‘শৈলেন ঘোষ ছিল অত্যাচারী জমিদার আর ইংরেজের দালাল। নুনের ব্যাপারি থেকে জমিদার হয়েছিল। সে হিন্দু-মুসলিম সব গরিব কৃষককে অত্যাচার করেছে। ‘এখানে হিন্দু-মুসলমানের কথা আনছেন কেন? আপনারা যারা মুসলিম লীগের হোমরা-চোমরা তারাই তো হিন্দুদের বাড়িঘর, জমিজাতি আত্মসাৎ করিছেন, এখন আপনাদের খেল খতম।’
‘আরে, আমারে অত লিকচার দিয়ে না বুইছ, আমার কথা শোনো, খুলনে পাকিস্তান নাহলি তোমরা ল্যাহাপড়া শিখতি পারতে না; সবুর খান খুল্লেরে পাকিস্তানে আনিছে, তাই আমাগে মোসলমানগে সে কথা মনে রাখতি হবে আর মেসলমান সব এক থাকতি হবে।’
এবার একটি কিশোর ছেলে ফর্সা, বেশ সুদর্শন, চোখে পাওয়ার চশমা, বসে বসে এতক্ষণ কী একটা ইংরেজি বই পড়ছিল। এবার সে বই বন্ধ করে উঠে দাঁড়িয়ে বেশ উত্তেজিতভঙ্গিতে বলে ওঠে, ‘মুসলমান এক হবে কীভাবে? আদমজী দাদা বাওয়ানি তো মুসলমান আর আমরাও মুসলমান। এই বাইশ পরিবার আমাদের পাট, চা ও চামড়া বিদেশে রপ্তানি করে সেই টাকা দিয়ে করাচি, পিন্ডি, লাহোর, ইসলামাবাদে আলিশান বিল্ডিং, বড় বড় রাজপথ, কলকারখানা বানাচ্ছে, আর আমাদের কী হচ্ছে। চাকরি-বাকরি কিছুই তো জুটছে না কপালে?’
এবার মোকছেদ মেম্বার বাচ্চা হাতিকে একটু পেলা দেওয়ার চেষ্টা করে,
‘বাঙ্গালিরা যদি ল্যাহাপড়া না শেখে, তাহলে বড় চাকরি কী এরে পাবে। এডা তো গাছের ফল না যে পাড়ে সবাইরে ভাগ করে দিলাম। আর আমাগে সবুর সাহেব তো খুল্লেয় অনেক মিল ফ্যাক্টরি বানাইছে, অনেক ছোয়াল পোয়াল সিহানে চাকরি করতিছে।’
এবার ফেরদৌস রাগে গজরাতে গজরাতে বলে ওঠে,‘আরে, আপনি আবার কোয়নতে নামলেন হায়ারে খেলতি। পাঞ্জাবিগে আর সবুর খানের এই ধামাধরা চেয়ারম্যানের পায়রাবি করতিছেন। সবুর খান দেশের কী করিছে, ছিলো কংগ্রেসে, সেখানে পাত্তা না পেয়ে মুসলিম লীগে চলে আসে। নিজে তো নামাজ-রোজা করে না, মদ আর ফুর্তি-ফার্তা করে, বাগানবাড়িতে মত্ত। সামান্য মাড়োয়ারিদের টালি ক্লার্ক থেকে এতগুলো বাড়ি, টাকা-পয়সা কীভাবে হইছে, জানেন? খালি তো মুসলিম লীগ করেন, এট্টু পানিতে ঢেউ মারে দ্যাহেন সব কিলিয়ার হবে।’
তরুণ ছাত্রদের উত্তপ্ত আবেগপূর্ণ আক্রমণে বাচ্চা হাতি ভাঁজ খেয়ে গেল। চতুর ও ধুরন্ধর এই ব্যক্তিটি এবার বললেন, ‘মোকছেদ মেম্বর, তুমি থামো। যাক বাবারা, তোমরা ল্যাহাপড়া শিহিছ, তোমরাই দেশের ভূত-ভবিষ্যৎ, আমরা আর কয় দিন, যা দেখে আইছি, তা-ই কই। বাবারা, আকাশের অবস্থা ভালো ঠেকতিছে না, বৃষ্টির তোড় বাড়ে গেছে আর গাঙ্গে বিজায় তুফোন হচ্ছে; সহিসালামতে আমাগে বাড়ি ফেরা দরকার, এহোন সবাই তোমরা আল্লা আল্লা করো।’
আকাশ ভেঙে মুষলধারে বৃষ্টি নেমে এসেছে। বাতাসে বৃষ্টির ঝাপটা ও নদীর উথাল-পাথাল ঢেউ এই বড় লঞ্চকে বেসামাল করে ফেলছে।
এবার বাচ্চা হাতি উঠে দাড়িয়ে বলল, ‘দেখি, আমি সামনের দিকি যাই, আবহাওয়া খারাপ সারেংরে একটু গাইড করতি হবে আর মহিলা কেবিনে মা-বোনেরা ভয় পাচ্ছে, তাগে সাহস দিতি হবে।’
দক্ষিণ বাংলার লোনা মাটির এই দেশে বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঝোড়ো হাওয়া আর আসমান ভাঙা বাদলের মাঝে বেড়ে ওঠা মুস্তফা, প্রকৃতির সামান্য বেয়াড়াপনাকে খুব একটা গ্রাহ্যে আনল না। বরং সে ভাবতে থাকে, এখনকার তরুণরা রুখে উঠছে তাহলে কি দেশে কোনো নুহের প্লাবন আসছে, যাতে সব অন্যায়, জুলুম-অত্যাচার ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। সেখানে তার ভূমিকা কী হবে? ডাক তো আসবেই, সে কি তখন শুধু দর্শক থাকবে; না অন্য কিছু?

 

Jokes…..

মনের জানালা

তারিখ: ১৯-০৩-২০১১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহতাব খানম দীর্ঘদিন ধরে কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিষয়টি পড়াচ্ছেন। তিনি আপনার মানসিক বিভিন্ন সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান দেবেন। অল্প কথায় আপনার সমস্যা তুলে ধরুন। আপনার সঠিক পরিচয় না দিতে চাইলে অন্য কোনো নাম ব্যবহার করুন। —বি.স.

সমস্যা: আমার বয়স ১৮ বছর। নবম শ্রেণী থেকে আমি একটি মেয়েকে ভালোবাসি। সে তখন আমাদের বিদ্যালয়েই ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ত। সে সময় আমি আমার মনের কথা বললে সে বলে, আপাতত তার মনের দরজা খোলা নেই। ভবিষ্যতে খুলতে পারে। কেবল তাকে পাওয়ার অনুপ্রেরণায় আমি লেখাপড়ায় মনোযোগী হই এবং এখন আমি বুয়েটে পড়ছি। এ সময়ের মধ্যে আমি কেবল ওর পড়ালেখার খোঁজখবর নিতাম। বুয়েটে ভর্তি হওয়ার পর আমি ওকে আবার (ও তখন দশম শ্রেণীতে পড়ে) প্রস্তাব করলে জানায়, সে অন্য একজনকে ভালোবাসে এবং আমি যেন ওর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না করি। কিন্তু ওর সঙ্গে কথা না হলে, ওকে না ভাবলে আমি থাকতে পারি না। ও যে আমাকে প্রত্যাখ্যান করছে, এ কথা ভাবলে জীবনটা অর্থহীন মনে হয়। পড়াশোনা করতে ইচ্ছা করে না। মনে হয়, আত্মহত্যা করি। এককথায় ওকে ছাড়া আমি বেঁচে থাকার কোনো প্রেরণা পাচ্ছি না। ওকে ছাড়া আমি কিছুই ভাবতে পারছি না। আপু, ও যদি সত্যি সত্যিই কোনো ছেলেকে ভালোবাসে, তাহলে আমার কী করা উচিত? আর যদি কোনো ছেলেকে আসলে না ভালোবাসে, তাহলে কী করা উচিত? ওকে ভোলা ছাড়া কি কোনোই পথ নেই? আমাদের বাসা পাশাপাশি গ্রামে এবং প্রেম না করার ব্যাপারে মেয়েটির ওপর পারিবারিক চাপ আছে।
হূদয়, ঢাকা।

পরামর্শ: মেয়েটিকে তুমি অনেক দিন ধরে ভালোবাসো—এ কথাটি না বলে ওকে তোমার খুব ভালো লাগে, এটা বললে বোধহয় ঠিক হতো। কারণ, ওর সঙ্গে তোমার খুব ভালোভাবে পরিচয় হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। মেয়েটির পছন্দ-অপছন্দের সঙ্গে তোমার রুচিবোধের কতটা সামঞ্জস্য রয়েছে, সেটিও জানার সুযোগ হতো যদি তোমরা প্রথমে পরস্পরের ভালো বন্ধু হতে পারতে। তা ছাড়া মেয়েটি এখনো অনেক ছোট। তুমিও এখন পর্যন্ত বয়ঃসন্ধিতে রয়েছ। দুজনই আবেগের বয়স পেরিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর সম্পর্কের ধরনটি বুঝতে চেষ্টা করলে ভালো হতো। এ ছাড়া মেয়েটি তো তোমাকে কখনো কোনো অঙ্গীকার বা নিশ্চয়তা দেয়নি। তুমি দ্বিতীয়বার তাকে প্রস্তাব করার পরও সেটি সে গ্রহণ করেনি। মনে হচ্ছে, তোমার দিক থেকেই শুধু ভালো লাগার বিষয়টি ঘটেছে। তুমি একটি ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ছো। এখানে পড়ার জন্য অনেকেই স্বপ্ন দেখে, কিন্তু সবাই সফল হয় না। তোমার বাবা-মাও নিশ্চয়ই তোমাকে অনেক যোগ্যতাসম্পন্ন দেখতে চান, তাই না? কাজেই মেয়েটি অন্য কাউকে ভালোবাসে কি না, সেই চিন্তায় কি তুমি তোমার মূল্যবান সময় এখন নষ্ট করবে? তুমি কারও দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছ—বিষয়টি এভাবে না দেখে বরং ভাবতে পারো, এটা তোমার মধ্যে কোনো কিছুর ঘাটতি রয়েছে বলে ঘটেনি। মেয়েটির দিক থেকে নিশ্চয়ই বিশেষ কিছু অসুবিধা আছে বলেই সে বারবার ‘না’ বলছে। কাজেই তুমি ওর মতামতকে শ্রদ্ধা করো এবং ও যে নিজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে, সেটিও বিশ্বাস করো। এই কারণে নিজের কোনো ক্ষতি করার কথা ভাবলে নিজের প্রতি অত্যন্ত অন্যায় ও অবিচার করা হবে। নিজেকে প্রথমে ভালোবাসতে হবে, তা না হলে আমরা নিজেদের তো ভালো রাখতে পারবই না, আশপাশের অত্যন্ত আপন মানুষকেও কষ্ট দিতে থাকব। আমি আশা করব, আপাতত তুমি লেখাপড়াকে জীবনের প্রধান কাজ হিসেবে দেখবে। এ ছাড়া খেলাধুলা এবং অন্যান্য সুস্থ কিছু চর্চার সঙ্গে যুক্ত হতে থাকো।

সমস্যা: আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের ছাত্র। পড়তে বসলে মাথা ঘোরে, অন্য চিন্তা মনে আসে। আর মনে হয়, পরে পড়ব। এ নিয়ে আমি খুবই দুশ্চিন্তায় আছি। আর একটি কথা, আমি কখনো কোনো মেয়েকে ভালোবাসার প্রস্তাব দেইনি। কিন্তু কোনো ভালো অর্থাৎ সুন্দরী মেয়ে দেখলে তাকে কিছু বলার জন্য ইচ্ছা করে, এমনটি মনে হয়। আমি খুব ধনী পরিবারের সন্তান নই। বলা যায়, একেবারেই মধ্যবিত্ত। আমার খাওয়ার রুচি খুব কম। সব সময় মানসিকভাবে আমি চিন্তাগ্রস্ত। আমার সব সময় ঘুম ধরে। আমি যে কী করব, কিছুই বুঝতে পারছি না। আমি শুধু এটা বুঝতে পারছি যে, আমি পড়াশোনায় অনেক বেশি পিছিয়ে পড়ছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

পরামর্শ: তুমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছো। তাই আমি তোমাকে অনুরোধ করব, সেখানকার ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের তৃতীয় তলার গাইডেন্স ও কাউন্সেলিং সেন্টারে যে কাউন্সেলিং সেবা দেওয়া হচ্ছে, সেটি নাও। যদি তাঁরা মনে করেন যে, তোমার কোনো মনোরোগ চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন, তাহলে যাঁর কাছ থেকে তুমি সেবা নেবে তিনিই তোমাকে বলে দেবেন কোথায় যেতে হবে। কেমন?

 

Health Tips…

3 Reasons You Need Vitamin E
Tip of the Day 2/13/2010

Vitamin E is a powerful, fat-soluble antioxidant that is vital to optimum health. It:

  1. Helps support cell membranes and address damage by free radicals.
  2. Is necessary for structural and functional maintenance of skeletal, cardiac, and smooth muscle
  3. Assists in the formation of new red blood cells and helps to maintain stores of vitamins A and K, iron, and selenium

Vitamin E is found in nature as a complex of eight separate compounds (four tocopherols and four tocotrienols), each with important functions in the body. I recommend avoiding synthetic versions, and using products that contain the full complex.

While vitamin E appears to be safe even at higher doses, people taking blood thinners or aspirin should consult with their doctor about vitamin E to avoid potential drug interactions. If you do supplement with vitamin E, take it with a meal that contains some fat to aid in its absorption. You can obtain natural vitamin E in foods such as nuts, spinach, sunflower seeds, wheat germ, and whole grains.

What’s In Your Vitamin E?
Natural vitamin E (in the form of mixed tocopherols and tocotrienols) provides the full range of benefits to support optimum health, while synthetic vitamin E is typically limited to alpha tocopherol. Dr. Weil recommends avoiding synthetic or single compound varieties, and instead opting for products that provide the complete vitamin E complex.

Collected from …… Prevention.com/ mohd_alam_2025